April 2, 2026, 9:11 pm

সংবাদ শিরোনাম
বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৬ ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিকল্প নেই পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ নষ্টের অভিযোগ এক-এগারোর ছায়া: বন্ধ দরজার ভেতর থেকে উঠে আসা নাম—মাসুদ রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী

ঢাবির প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ১০

ঢাবির প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ১০

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ দমন শাখা সিআইডি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে। এরপর পর্যায়ক্রমে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রশ্ন ফাঁস চক্রের আরো আট সদস্যকে। এর পর গত সোমবার নাটোর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামীকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে আসে সিআইডির একটি বিশেষ দল। তাঁকে পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রাকিবুল হাসান এছামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত বুধবার জামালপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় সাইফুল ইসলামকে। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় খান বাহাদুর নামে এক যুবককে। সিআইডি কর্মকর্তাদের দাবি, এইখান বাহাদুর ঢাকার একটি প্রেসের কর্মচারী, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ছাপা হয়। বাহাদুরের মাধ্যমেই মূলত ছাপাখানা থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে চলে যেত সাইফুলের হাতে। তারপরই রাকিবুল হাসান এছামী তা ভর্তিচ্ছুদের কাছে বিক্রি করতেন। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, যাদের গ্রেফতার করেছি, সবাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন কারো পরিবার যদি দাবি করে, তাদের সন্তানরা এতে জড়িত না, তাহলে সেটা আমরা সেটা ভেরিভাই করব। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে খান বাহাদুর (২৮) নামের এক প্রেস কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন যে প্রেসে ছাপানো হয়েছিল খান বাহাদুর সেখানকার কর্মচারী। গত বুধবার রাজধানীর ইন্দিরা রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাকে (খান বাহাদুর) গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে এই চক্রের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। এই চক্রের ‘শীর্ষে’ থাকা পাবনা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রকিবুল হাসান ইসামীও পুলিশের হেফাজতে আছেন উল্লেখ করে নজরুল জানান, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গত তিন মাসে এই পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গত ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেরদিন রাতেই প্রশ্নের ইংরেজি অংশটি ফাঁস হওয়ার খবর আসে গণমাধ্যমে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি জানায়, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে ফেইসবুকে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে পরীক্ষার আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রানা ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আটক করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাদের কাছ থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেন, যা দিয়ে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ১৩ জনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের কাছেও বাইরে যোগাযোগ করার বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী ওই সময় জানিয়েছিলেন, মাস্টারকার্ডের মত দেখতে পাতলা ওই ডিভাইসের ভেতরে মোবাইল সিম থাকে। আর পরীক্ষার হলে ব্যবহারের জন্য থাকে অতি ক্ষুদ্র লিসেনিং কিট। এই ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তর বলে দেওয়া যায়। পরে আটকদের মধ্যে থেকে ১২ শিক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মহিউদ্দিন রানা ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে গ্রেফতার করা হয় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক হোসেন রাফি, ফারজাদ সোবাহান নাফি এবং এই চক্রের অন্যতম হোতা আনিন চৌধুরীকে। সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম বলেন, এই তিনজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৪ নভেম্বর রংপুর থেকে নাভিদ আনজুম তনয় এবং গাজীপুর থেকে এনামুল হক আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। এদের কাছ থেকে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। তিনি জানান, তনয় এবং আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় ১১ তরুণকে। এরা হলেন- নাহিদ ইফতেখার (১৯), রিফাত হোসেন (১৯), মো. বায়জিদ (১৯), ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির (১৯) তানভী আহম্মেদ মল্লিক (১৯), প্রসেনজিৎ দাস (২০), মো. আজিজুল হাকিম (২০), টিএম তানভির হাসনাইন (১৮), সুজাউর রহমান সাম্য (১৯), রাফসান করিম (১৯) ও মো. আখিনুর রহমান অনিক (১৯)। মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, এদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি এদের মধ্যে শুধু ডিভাইস সাপ্লাই গ্রুপই নয়, প্রশ্ন ফাঁসের গ্রুপও জড়িত। এরপর ৭-৯ ডিসেম্বরে ঢাকার জিগাতলা থেকে নাজমুল হাসান নাঈম (১৯), রাজশাহী মেডিকেল এলাকা থেকে বনি ইসরাইল (২৩) এবং রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকা থেকে মারুফ হোসেনকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। মোল্লা নজরুল জানান, বনি ইসরায়েল এবং মারুফ হোসেনের কাজ ছিল ভর্তিচ্ছু ছাত্র সংগ্রহ এবং তাদের তথ্য চক্রের নেতা রকিবুল হাসান ইসামীকে সরবরাহ করা। পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর ইসামীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী (গত বুধবার) জামালপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, খান বাহাদুর একটি প্রেসের কর্মচারী যেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ছাপানো হত। খান বাহাদুরের সঙ্গে পরিচয় ছিল সাইফুলের। সাইফুল একসময় ইসামীর কাছে প্রশ্নের বিষয়টি তুললে ইসামী তার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং সাইফুলকে বলে প্রশ্ন ছাপানো হলে তা দ্রুত সংগ্রহ করে তাকে দেওয়ার জন্য। আর এভাবেই গড়ে ওঠে প্রশ্ন ফাঁসের পুরো চক্রটি। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে গ্রেফতারদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলেও জানান মোল্লা নজরুল ইসলাম।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর